আখতারুজ্জামান ইলিয়াস ছোট গল্প সম্পর্কে বলেন, " ছোট প্রাণ, ছোট কথা বলে এখন কিছু আছে কি? ছোট দুঃখ কোনটি ? প্রতিটি ছোট দুঃখের মাঝে চোখ দিলে দেখা যায় তাঁর মস্ত প্রেক্ষাপট, তাঁর জটিল চেহারা এবং তাঁর কুটিল উৎস।" আখতারুজ্জামান ইলিয়াস বাংলা কথাসাহিত্যের এমন এক চরিত্র যিনি কিনা একা আমাদের গোটা সাহিত্যকে নিয়ে গেছেন আলাদা এক পর্যায়ে, দিয়েছেন আলাদা মাত্রা।
আজ লিখবো তাঁর "দোজখের ওম" বইটি নিয়ে...। আমি এমন কোন বড় মাপের লোক নই যে তাঁর লেখার সমালোচনা বা তাঁর কোন লেখা নিয়ে মন্তব্য করতে পারি। আমি যা করতে পারি তা হল বইপোকার সদস্যদের কাছে তাঁর লেখা বইটা নিয়ে সামান্য আলোচনা মাত্র।
"দোজখের ওম" গল্পগ্রন্থটিতে গল্প আছে মোট চারটি। কীটনাশকের কীর্তি, যুগলবন্দী, অপঘাত আর দোজখের ওম। প্রতিটা গল্পই আলাদা বৈশিষ্ট্যে বিশিষ্ট। ইলিয়াস যখন তাঁর কোন চরিত্র নির্মাণ করেন তখন সেই ক্যারেক্টারের এনাটমি করেন তার পর চালান তাঁর খানা খন্দ করা।
কীটনাশকের কীর্তি গল্পটিতে উঠে এসেছে সমাজের নিচুস্তরের মানুষের কথা, রমিজ যার বোন আতমন্নেসা গ্রামের কিসমত মৃধার ছেলে "ম্যাট্রিক পাস"-এর লালসার শিকার হয় এবং বিয়ের পর ম্যাট্রিক পাসের কথামত না চলায় তাকে অসতী প্রমাণ করলে আত্মহত্যা করে। এই খবরে এক অদ্ভুত প্রতিক্রিয়া রমিজের। সে এর সব দোষ দেয় তাঁর বাড়ির মালিকের মেয়ে সম্পাকে। এবং গল্প শেষ হয় বিস্ময়কর পরিণতিতে।
যুগলবন্দী গল্পটিতে আর্থসামাজিক বৈষম্য বেশ ভালভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন ইলিয়াস। মূল চরিত্র আসগরের মনস্তাতিক বিশ্লেষণে মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন তিনি। আসগর এ সমাজের আধুনিক সংস্করণ, এই পুঁজিবাদী কাঠামোর বিকৃত প্রতিধ্বনি।
অপঘাত গল্পটি আমাদের মুক্তিযুদ্ধ কেন্দ্রিক। নিজের একমাত্র সন্তান-এর অপঘাত-এ মৃত্যুর খবর শুনে মোবারক যারপরানাই বিরক্ত, আবার সেই একই মোবারক গল্পের শেষে এসে কিভাবে তাঁর ছেলের মৃত্যুকে স্রদ্ধার চোখে দেখছে সেটি সত্যি অভাবনীয় অভিজ্ঞতা।
দোজখের ওম গল্প পঙ্গু আকবরের বাপ কামালুদ্দিনকে নিয়ে লেখা। গল্পে দেখা যায় তার ছেলে মেয়ে স্ত্রী সকলে মরে গেলেও পঙ্গু -সে বেঁচে থেকে পৃথিবীতে বসে দোজখের ওম পায়। এবং গল্পের শেষে তাঁর আবার উত্থান সত্যি চমৎকার এক গল্পের রেশ মনে ধরিয়ে দেয়।
শেষ কথা আসলে এটাই যে কিছু কিছু লেখক থাকেন যাদের লেখাকে নিজে না পড়লে বোঝা যায় না তাঁর লেখার ক্ষমতা কতখানি। আখতারুজ্জামআন ইলিয়াস হলেন সেই মাপের একজন লেখক, আর আমার মতন নাদান-এর পক্ষে তাঁর লেখার রিভিউ করা সত্যি ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। তবু চেষ্টা চালালাম আর কি!!
দোজখের ওম
Mehedie Hassan https://bookshelvez.com//Attachments/BookCovers/970.jpgশেষ কথা আসলে এটাই যে কিছু কিছু লেখক থাকেন যাদের লেখাকে নিজে না পড়লে বোঝা যায় না তাঁর লেখার ক্ষমতা কতখানি। আখতারুজ্জামআন ইলিয়াস হলেন সেই মাপের একজন লেখক, আর আমার মতন নাদান-এর পক্ষে তাঁর লেখার রিভিউ করা সত্যি ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। তবু চেষ্টা চালালাম আর কি!!
দোজখের ওম
https://bookshelvez.com//Attachments/BookCovers/970.jpg