সুনীল_গঙ্গোপাধ্যায়ের_“জলদস্যু”

“ইতিহাসে বলে দুর্ধর্ষ ফিরিঙ্গি জলদস্যু সিবাস্টিয়ান গঞ্জালেস টিবাও কয়েকটি শর্তে তার দলবল নিয়ে ধরা দিয়েছিল মোগল সেনাপতি শায়েস্তা খাঁর কাছে। কিন্তু বিশু ঠাকুর নামে একজন বাঙালী যুবক যে তাদের কৌশলে ধরে এনে শায়েস্তা খাঁর হাতে তুলে দিয়েছিল, সে-কথা লিখতে ঐতিহাসিকেরা ভুলে গেছেন। ইতিহাস শুধু রাজা-রাজড়াদের কথাই লেখে, সাধারণ মানুষের বীরত্বের কথা মনে রাখে না।...”
.
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের দাবী সত্যি কি বানানো তা আমার জানা নাই। কারণ এই বইয়ের আগে বিশু ঠাকুরের নামও শুনিনি আমি। কিন্তু বইটা পড়তে পড়তে বিশু ঠাকুরের অকুতোভয় সাহসিকতায় মুগ্ধ হই,তার প্রচণ্ড অসুরিক শক্তিমত্তায় চমকিত হই, তার বীরত্বে নিজের বাঙালী বুক গর্বে ফুলে ওঠে। সত্যি হোক চাই বানানো হোক এমন অনুভূতি দেয়ার জন্য লেখককে ধন্যবাদ। 
.
বিশু ঠাকুরের আসল নাম বিশ্বেশ্বর পণ্ডিত। ছিলেন শিবতলা নামের এক নিরিবিলি গ্রামের শিবমন্দিরের পুরুত ঠাকুর হয়ে। দুই এক বার বনের বাঘ গ্রামে এসে পড়ায় হৈ হৈ করে দল বেঁধে সেই বাঘকে মারা ছাড়া বিশেষ সাহসিকতার কাজ কিছু করেননি। নির্বিরোধী মানুষই ছিলেন বলা চলে। কিন্তু গোল বাঁধল যখন শান্ত গ্রামটিতে হার্মাদ জলদস্যুর আক্রমণে পড়ল। গ্রামের আর সকলের মতন তাকেও বরণ করে নিতে হল দাসত্বের শেকল। কিন্তু বিশু ঠাকুর যে ব্রাহ্মণ, ব্রাহ্মণ কি কখনো দাসত্বের বেড়ি পায়ে পড়তে পারে? তাকে যে মুক্ত হতেই হবে। যেভাবেই হোক। ব্যস শুরু হয়ে গেল আমাদের গল্প। এর সাথে যোগ দিল নিষ্ঠুর হার্মাদ জলদস্যু, সাহসী নিতাই, বুদ্ধিমান মাধবদাস, কোমলমতি ছোট্ট মেয়ে কুড়ানী। 
.
“জলদস্যু” উপন্যাস সম্পর্কে বলতে গেলে বলব, খুবই চমৎকার একটা বই। বাচ্চাকালে পড়লে আরও ভালো লাগত। একবার আমি একটা লিস্ট করেছিলাম সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কোন কোন বই কোন কোন বয়সে পড়তে হবে, তাতে এই বইটা ছিল ক্লাসে সেভেনে সিক্সে পড়ার মতন। আজ কপালের দোষে বুড়োবয়সে এসে এই বই পড়তে হচ্ছে। মন খারাপের এও এক কারণ। 
.
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের “দশটি কিশোর উপন্যাস” নামে একটা বই আছে আমার কাছে। তাতে “আঁধার রাতের অতিথি” নামের একটা উপন্যাস অনেকদিন থেকেই পড়া পড়া করেও পড়া হচ্ছিল না মূলত এই “জলদস্যু” উপন্যাসটার কারণে। শুনেছি এই বইটি নাকি ওই বইটির প্রিক্যুয়েল। এইবার এটা পড়ে ওটা ধরব।
.
যারা এখনো পড়েননি, চট করে পড়ে ফেলতে পারেন বইটি। আর মুহূর্তের মধ্যেই হারিয়ে যেতে পারেন ষোড়শ শতাব্দীতে। 
.
সবাইকে বইটি পড়ার আমন্ত্রণ জানিয়ে ধন্যবাদ।

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের “জলদস্যু”

https://bookshelvez.com//Attachments/BookCovers/568.jpg
https://bookshelvez.com//Attachments/BookCovers/568.jpg

“ইতিহাসে বলে দুর্ধর্ষ ফিরিঙ্গি জলদস্যু সিবাস্টিয়ান গঞ্জালেস টিবাও কয়েকটি শর্তে তার দলবল নিয়ে ধরা দিয়েছিল মোগল সেনাপতি শায়েস্তা খাঁর কাছে। কিন্তু বিশু ঠাকুর নামে একজন বাঙালী যুবক যে তাদের কৌশলে ধরে এনে শায়েস্তা খাঁর হাতে তুলে দিয়েছিল, সে-কথা লিখতে ঐতিহাসিকেরা ভুলে গেছেন। ইতিহাস শুধু রাজা-রাজড়াদের কথাই লেখে, সাধারণ মানুষের বীরত্বের কথা মনে রাখে না।...”

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের “জলদস্যু”

https://bookshelvez.com//Attachments/BookCovers/568.jpg

Copyright © 2025 4i Inc. All rights reserved.