বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় একদা বলে গিয়েছিলেন, “যদি মনে এমন বুঝিতে পারেন যে, লিখিয়া দেশের ও মনুষ্যজাতির কিছু মঙ্গল সাধন করিতে পারেন, অথবা সৌন্দর্য সৃষ্টি করিতে পারেন, তবে অবশ্য লিখিবেন।” বঙ্কিমচন্দ্রের কথা শিরোধার্য করে রাজশেখর বসু যে তার কলম ধরেছিলেন এমন কথা কোথাও শোনা না গেলেও তার রচনায় সেই মনুষ্যজাতির কিংবা দেশের মঙ্গল সাধন দেখতে পাওয়া যায়। তাই তো তার প্রতিটি রস-গল্পগুলো যেন নির্মল হাস্যরসের আড়ালে আমাদের সকল ব্যক্তিগত অসাধুতা, ধর্মীয় কুসংস্কার এবং সামাজিক ভণ্ডামির উপর পরশুরামের কুঠারের মতই আঘাত হানে। আমরা হাসিতে ভেঙে পড়ি ঠিকই কিন্তু একই সাথে একটু যেন কম্পিতও হই।